আমেরিকান এক্সপ্রেসের (অ্যামেক্স) ধনাঢ্য কার্ডধারীদের খরচে ভাটা পড়েনি। বরং তরুণ গ্রাহকদের হাত ধরে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ক্রিস্তোফ লে কাইলেক। খবর সিএনবিসি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডে বিল পরিশোধ বেড়েছে ৬ শতাংশ। লিপ ইয়ার বিবেচনায় তা দাঁড়ায় ৭ শতাংশে।
লে কাইলেক বলেন, ‘গত বছরের শেষ প্রান্তিকে খরচ বৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা ২০২৫ সালের এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। যদিও চলতি মাসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। তবে ধনাঢ্য গ্রাহকরা শুল্ক ও মূল্যস্ফীতির চাপে প্রভাবিত না হওয়ায় পেমেন্ট সিস্টেমটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুনাফা করেছে।
লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তরুণ কার্ডধারীদের। মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেড (জেন-জি) সদস্যরা প্রথম প্রান্তিকে ১৪ শতাংশ বেশি খরচ করেছে। বিপরীতে জেনারেশন এক্স ও বেবি বুমার কার্ডধারীরা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এ দুই প্রজন্মের সদস্যদের ব্যয় বেড়েছে যথাক্রমে ৫ ও ১ শতাংশ।
আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের বরাতে লে কাইলেক বলেন, ‘ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর অনেকেই ভবিষ্যতে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই মজুদ বাড়াচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রেস্তোরাঁয় খরচ ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি একেবারে ঐচ্ছিক খরচ। এ খরচ বাড়া আমাদের কার্ডধারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের একটি ভালো নির্দেশক।’
প্রবীণ আমেরিকানদের ব্যয় কমার পাশাপাশি দুর্বলতার আরেকটি জায়গা ছিল আকাশ পরিবহন খাতে লেনদেন। অ্যামেক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ খাতে লেনদেন প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ গত প্রান্তিকে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ।
এদিকে বিমান সংস্থা ও খুচরা বিক্রেতাসহ বহু প্রতিষ্ঠান শুল্ক অনিশ্চয়তার কারণে আয়ের পূর্বাভাস তুলে নিয়েছে। তবে আমেরিকান এক্সপ্রেস তা করছে না।
লে কাইলেক জানান, আমেরিকান এক্সপ্রেস আয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের মতোই ৮-১০ শতাংশ ধরে রেখেছে। প্রতি শেয়ারে আয় হবে ১৫ থেকে ১৫ দশমিক ৫০ ডলার। তবে তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।